#ইয়েনি_চেরি_বাহিনী
#জেনিসারি_বাহিনী
.
জেনিসারি, উসমানীয় সাম্রাজ্যের এলিট বাহিনী। এ বাহিনী উসমানীয় সালতানাতের মেরুদন্ড হিসেবে বিবেচিত হতো। উসমানীয় সাম্রাজ্যের শৌর্যবীর্যের যে ইতিহাস তার অন্তরালে ছিল জেনিসারি বাহিনী। উসমানীয় সাম্রাজ্যের সামরিক শক্তিকে অপ্রতিরোধ্য, দানবীয় করে তুলেছিল এই বাহিনী। সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধের ময়দানে বিজয় লাভে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান ও খলিফাদের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা ছিল জেনিসারি বাহিনী। যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর বুকে কাঁপন ধরানো এই বাহিনী ছিল প্রতিপক্ষের জন্য স্বাক্ষাত যমদূত। জেনিসারি বাহিনীর পরাজিত হবার ইতিহাস একেবারেই বিরল। কসোভো যুদ্ধ, নিউ কোপলিসের যুদ্ধ, কনস্টান্টিনোপোলের যুদ্ধ সহ বিভিন্ন যুদ্ধে বিজয় এনে দেওয়া জেনিসারিরা উসমানীয় সাম্রাজ্যকে ছড়িয়ে দিয়েছে ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ায়। তুর্কি শব্দ ইয়েনি চেরি থেকে বিকৃত হওয়া জেনিসারি ছিল উসমানীয় সালতানাতের গর্বিত সম্পদ। যুদ্ধক্ষেত্রে হিংস্র আর ক্ষ্যাপাটে চরিত্র ধারণ করা প্রত্যেক জেনিসারি সদস্য ছিল প্রতিপক্ষের সাক্ষাত যম, দুঃস্বপ্ন। প্রায় ৫০০ বছরের সামরিক ইতিহাসে জেনিসারি বাহিনী খুব কম যুদ্ধেই পরাজিত হয়েছিল। তাদের সম্পর্কে কথিত আছে, যুদ্ধক্ষেত্রে হাত কিংবা পা উড়ে গেলেও অবশিষ্ট অঙ্গ দিয়ে যুদ্ধ করেই তবে তারা ক্ষান্ত হত।
.
✓ জেনিসারি বাহিনীর উৎথান -
জেনিসারিদের উৎপত্তি নিয়ে প্রায়ই হাজী বেকদাশ নামের এক দরবেশের নাম শুনা যায়। তিনি সুলতান ওরহানকে তিনি ইয়েনি চেরি বা নতুন সৈন্যদল গঠনের কথা বলেছিলেন। এই ইয়েনি চেরি থেকেই জেনিসারি নামের উৎভব বলে ধারণা করা হয়। আনুষ্ঠানিক ভাবে পরবর্তী উসমানীয় সুলতান মুরাদ সর্বপ্রথম ছোট পরিসরে ১৩৮০ সালের দিকে জেনিসারি বাহিনীর গোড়াপত্তন করেন। সুলতান মুরাদ বুঝতে পেরেছিলেন উসমানীয় সামরিক শক্তিকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন করার জন্য নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন বিশেষায়িত বাহিনীর। এজন্য উসমানীয় সাম্রাজ্যের ইউরোপীয় অঞ্চল থেকে বিশেষ করে আধুনিক কালের গ্রীস, আলবেনিয়া, মেসিডোনিয়া, বুলগেরিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসলিম ও খ্রিষ্টান শিশু, কিশোর আনা হতো। তাদেরকে তুর্কি সংস্কৃতি, তুর্কি, আরবী ও ফারসি ভাষা শিক্ষা দিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করে জেনিসারি বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হতো।
.
প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে জেনিসারি বাহিনীর সদস্যদের কাজ ছিল সুলতান ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সুলতানের প্রতি অনুগত থাকাই ছিল তাদের প্রধান কর্তব্য। ধীরে ধীরে পুরো উসমানীয় সামরিক বাহিনীতে জেনিসারি বাহিনীর বিচরণ ছড়িয়ে পড়ে। অচিরেই তারা আত্মপ্রকাশ করে অপরাজেয় এক বাহিনী হিসেবে।
.
✓ জেনিসারি বাহিনীর নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ -
কয়েক বছর পর পর সুলতান মুরাদের প্রতিনিধিরা স্বসৈন্যে বলকানের গ্রামগুলোতে যেতেন শিশু কিশোর বাছাই করতে। সাত থেকে ষোল বছরের শিশু কিশোরদের নির্দিষ্ট জায়গায় আনা হতো, যারা পিতা মাতার একমাত্র সন্তান তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো, যাদের বাবা নেই কিন্তু মা আছে তাদেরকেও ফিরিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু যারা ইয়াতিম তাদের নিয়ে আসা হতো। বেশি খাটো, বেশি মোটা বা বেশি লম্বা কাউকে নেওয়া হতো না। কঠোর পরিশ্রম করতে পারবে না এই ভাবনায় নেওয়া হতো না চিকনদের। এরপর যারা বাকি থাকতো তাদের মধ্যে সুঠামদেহী, সুশ্রী চেহারার অধিকারীদের নিয়ে আসা হতো আনাতোলিয়ায়।
.
আনাতোলিয়ায় এনে তাদের থাকতে দেওয়া হতো আগে থেকে বাছাই করা মুসলিম কোন কৃষক পরিবারের সাথে। সেখানে তাদের ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করানো হতো ও ইসলামে দীক্ষিত করা হতো। ইসলামী নিয়ম-কানুন শেখার পাশাপাশি কৃষক পরিবারে থাকার কারণে তারা কঠোর পরিশ্রমী হিসেবে গড়ে উঠতো। তাদের সঠিক যত্ন নেওয়া হচ্ছে কিনা এবিষয়ে সুলতানের প্রতিনিধিরা নিয়মিত খোঁজ খবর রাখতেন। কয়েক বছর কৃষক পরিবারে থাকার পর তাদের নিয়ে আসা হতো বুরসায়। সেখানে তাদের ভিতরে যারা সবচেয়ে বেশি মেধাবী, সুদর্শন আর শক্তিশালী তাদের পাঠানো হতো রাজপ্রাসাদে। প্রাসাদে তারা পড়ালেখা করতো শাহজাদা আর পাশাদের সাথে। যারা পড়াশোনায় ভালো তাদেরকে আলাদা করে পাঠানো হতো মাদরাসা আর বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে। তৃতীয় যে অংশটি থাকতো তাদের গড়ে তোলা হতো সৈনিক হিসেবে। এই সৈনিকদের নিয়ে গড়া বাহিনীর নাম জেনিসারি।
.
জেনিসারিদের জন্য তুর্কি ভাষা, সংস্কৃতি শিক্ষা ছিল অবশ্য কর্তব্য। কুরআন ও হাদীসের পাঠ ছিল নিয়মিত। যুদ্ধবিদ্যা থেকে বিজ্ঞান, এমনকি অর্থনীতির শিক্ষাও তাদের দেওয়া হতো। সুলতানের প্রতি বায়াতের পাশাপাশি তাদের যেতে হতো কঠিন প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে। ভার উত্তোলন, কুস্তি, রোদে দাঁড়িয়ে থাকা, মল্ল যুদ্ধ, ঘোড় দৌড়, তীরন্দাজী ইত্যাদি ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ। জেনিসারি বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য দুই হাতে চলো চালাতে পারতেন। জেনিসারি বাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তীরন্দাজী। তাদের ছিল আলাদা লাল পোশাক, আলাদা রান্নাঘর, আলাদা থাকার জায়গা বা ব্যারাক। জেনিসারি বাহিনীর সদস্যদের বেতন কাঠামো ছিল অন্য বাহিনীর তুলনায় বেশি।
.
কথিত আছে প্রথম দুইশত বছর জেনিসারি বাহিনীর কোন সদস্য অবসরের আগে বিয়ে করতে পারতেন না। এমনকি দাঁড়ি রাখাও ছিল নিষিদ্ধ। যুদ্ধ প্রশিক্ষণ ছায়াও তাদেরকে অন্যান্য কারিগরি প্রশিক্ষণ নিতে হতো। উচ্চ বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা চাকরির কারনেও উসমানীয় সালতানাতের ইউরোপীয় অঞ্চলের অনেক খ্রিষ্টান পরিবার তাদের পুত্র সন্তানকে জেনিসারি বাহিনীর সদস্য বানানোর চেষ্টা করতেন। প্রথম দিকে শুধু খ্রিষ্টান শিশু - কিশোর ইসলামে দীক্ষিত করে নিয়োগ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে এই নিয়ম রহিত করে মুসলিমদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়।
.
✓ জেনিসারীদের বর্ণাঢ্য জীবন -
মধ্যযুগের সামরিক ইতিহাসে উসমানীয় সালতানাতের এ বিশেষ পদাতিক বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে এমনি এমনিই অপরাজেয় হয়ে উঠেনি। প্রথমদিকে সুলতানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী, প্রাসাদ প্রহরী থেকে পরাক্রমশালী সামরিক বাহিনী হয়ে উঠা এ দলের সদস্যরা যুদ্ধকালীন সময়ের বাইরে পৌরকেন্দ্রিক দায়িত্বও পালন করত। মাঝে মাঝে তাদের অগ্নি নির্বাপনের কাজেও প্রত্যক্ষ করা যেত৷ জেনিসারী কমান্ডারকে বলা হত Soup cook. তাঁকে এক বিশেষ আদলের সামরিক পোশাক পরতে হত যার হাতা ছিল তুলনামূলক লম্বা। জেনিসারি সদস্যরা সবসময় অস্ত্রসস্ত্র সজ্জিত হয়ে থাকত। দাড়ি ছাড়া গোঁফসমেত সদস্যদের দেখলেও অনেকে ভয় পেত। জেনিসারী বাহিনী পৃথিবীতে সর্বপ্রথম সামরিক মিউজিক্যাল ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করে। যুদ্ধে অংশ নেয়ার পূর্বমুহূর্তে বাদ্যসানাই বাজিয়ে এ ব্যান্ড যোদ্ধাদের অনুপ্রানিত করত। সবসময় যুদ্ধংদেহী মনোভাবে থাকা জেনিসারিগণ উসমানীয় সালতানাতে আলাদা সম্মান ভোগ করত। কোন কোন সময় সুলতান এবং তার পুত্রদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে জেনিসারী কর্ণেলগণ দায়িত্ব পালন করতেন। সালতানাতের প্রতি নিরংকুশ আনুগত্য এ বাহিনীকে আরো জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
.
✓ যুদ্ধক্ষেত্রে জেনিসারি -
যুদ্ধের ময়দানে জেনিসারি বাহিনীর সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব ছিল সুলতানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তারা থাকতো সুলতানের ঠিক সামনে। জেনিসারি বাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধের গতি প্রকৃতি বুঝে যুদ্ধে জড়াত। নিয়মিত বাহিনী পরাস্ত হলেই জেনিসারি বাহিনী প্রতিপক্ষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। যুদ্ধক্ষেত্রে গোলন্দাজ বা আর্টিলারি বা কামান জেনিসারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকতো। আর কামান ব্যবহারের দায়িত্ব ছিল তাদের উপর। তিন ভাগে ভাগ হওয়া উসমানীয় বাহিনীর শেষ ভাগে থাকত জেনিসারীরা। কসোভোর যুদ্ধ, চালদিরানের যুদ্ধ, অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে যুদ্ধ, কনস্ট্যান্টিনোপল দখলে জেনিসারি বাহিনী অসামান্য রণনৈপুণ্য প্রদর্শন করেছিল। ক্রুসেডের এক যুদ্ধে ইউরোপীয় জোটের কাছে প্রায় হারতে বসেছিল উসমানীয় বাহিনী৷ ইউরোপীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন হাঙ্গেরির রাজা৷ ইউরোপীয় সৈন্যরা যখন উসমানীয় বাহিনীকে প্রায় বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল ঠিক তখনই নজিরবিহীন যুদ্ধশৈলী প্রদর্শন করে জেনিসারি বাহিনী। যুদ্ধের মোড় পালটিয়ে নতুন পজিশন গ্রহণ করে অল্প সদস্যের এ পদাতিক দল বিশাল ইউরোপীয় বহরের একেক সৈন্যকে প্রবল হিংস্রতার সাথে হত্যা করে। জেনিসারীদের রুদ্রমূর্তি প্রত্যক্ষ করে সেদিন ইউরোপীয় জোট দিগ্বিদিক পালাতে থাকে। হাঙ্গেরির রাজার মাথা কেটে এনে সুলতানের সামনে রাখা হয়। সে দৃশ্য দেখে স্বয়ং সুলতান নিজেই বলেছিলেন “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ এ দৃশ্যে সন্তুষ্ট হবেন না”
.
সুলতান বায়েজিদ সার্বিয়ার রাজকন্যা অলিভেরাকে বিয়ে করলে ইউরোপের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পোপ মুসলমানদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ক্রুসেড ঘোষণা করেন। ইতিহাসে ব্যাটল অফ নিউকোপোলিস নামে পরিচিত এ যুদ্ধে ২১,০০০ ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে ১২,০০০ তুর্কি সেনা। যুদ্ধের শুরুতেই ক্রুসেডাররা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তাদের ইচ্ছা ছিল উসমানীয়দের প্রথম দুই ভাগের সৈন্যদের পরাজিত করে জেনিসারীদের মোকাবেলা করা। কিন্তু ক্রুসেডারদের সে ইচ্ছা আগেই ভণ্ডুল করে দেয় চতুর জেনিসারী। প্রথম ধাপ শেষ করে যখন ইউরোপীয় বাহিনী দ্বিতীয় ধাপে এসে পৌছায় তখন কিছু বুঝে উঠার আগেই জেনিসারীদের উপর্যুপরি হামলার শিকার হয়। নিউকোপলিসের এ যুদ্ধেও জেনিসারীদের বিজয় সূচিত হয়। এছাড়া ১৪৫৩ সালে মুসলিমদের ঐতিহাসিক কনস্ট্যানটিনোপল বিজয়ে জেনিসারীদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।
.
✓ জেনিসারি বাহিনীর বিদ্রোহ ও পতন -
উসমানীয় সালতানাতে জেনিসারি বাহিনী ছিল মহাপরাক্রমশালী। একসময় মহাপরাক্রমশালী এই বাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা শুরু করে। সৈন্যদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এতটাই বেশি যে, একসময় তারা সুলতান নির্বাচনেও হস্তক্ষেপ করা শুরু করে। মাঝে মাঝে উসমানীয় সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ইতিহাস রয়েছে জেনিসারি বাহিনীর। ১৪৪৯ সালে বেতন ভাতা বৃদ্ধির জন্য তারা প্রথম বিদ্রোহ করে। তৎকালীন সুলতান তাদের দাবি মেনে নিয়ে জেনিসারি বাহিনীর বেতন ভাতা বৃদ্ধি করেন। সুলতান দ্বিতীয় উসমান পর পর কয়েকটি যুদ্ধে পরাজিত হবার পর জেনিসারি বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেই জেনিসারিদের কাছে তিনি বন্দী অবস্থায় নিহত হন। জেনিসারিদের ক্ষমতা দিন দিন লাগাম ছাড়া হয়ে উঠলে সুলতান তৃতীয় সেলিম "নিজাম-ই-জাদীদ" নামে নতুন একটি বিশেষায়িত বাহিনী গড়ে তোলেন। এতে করে জেনিসারিরা শংকিত হয়ে পড়ে৷ নিজেদের আধিপত্য ও অপরিহার্যতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে নতুন বাহিনীর বিরোধিতা করা শুরু করে জেনিসারিরা। তাদের প্রবল বিরোধিতার মুখে সুলতান বাধ্য হয়ে নতুন বাহিনী "নিজাম-ই-জাদীদ" বিলুপ্ত করে দেন। সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ সেনাবাহিনী সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আরেক দফা বিক্ষোভ করে বসে জেনিসারিরা। কিন্তু ততদিনে জেনিসারি বিরোধী একটি শ্রেণী তৈরি হয়ে যায় সুলতানের চারপাশে। সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ এবার কঠোর এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তার গোলন্দাজ বাহিনীকে জেনিসারিদের ব্যারাক ধ্বংসের আদেশ দেন। ১৮২৬ সালে গোলন্দাজ বাহিনীর আঘাতে জেনিসারীদের ব্যারাক ভস্মীভূত হয়ে যায়। দূর্গে অবস্থান নেয়া জেনিসারী সৈন্যের সবাইকে দূর্গসহ ধ্বংস করে দেয়া হয়৷ অবশিষ্টদের বিচারের আওতায় এনে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়৷ আর এরই সাথে পতন ঘটে উসমানীয় সালতানাতের গর্বের ধন জেনিসারী বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
.
জেনিসারি বাহিনীর অবলুপ্তির পর ১২ হাজার নতুন সৈনিক নিয়ে একটি নতুন বাহিনী গঠন করা হয়। যে বাহিনীর সংক্ষিপ্ত নাম ছিল মন্সুর বাহিনী। ১৮৩০ সালে এই বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ২৭ হাজারে উন্নতি হয় এবং একটি অশ্বারোহী বাহিনী এতে সংযোজন করা হয়। এরপর উসমানীয় সালতানাতের অন্যান্য বাহিনীগুলোকে একত্রিত করে একটি সুশৃংখল সেনাবাহিনীতে রূপান্তর করা হয়। এই সেনাবাহিনী উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল।
.
তথ্যসূত্রঃ
১. উসমানী সম্রাজ্যের ইতিহাস - ড. আলী আস সাল্লাবী
২. উইকিপিডিয়া বাংলা
৩. The Ottoman Empire

