বীর যোদ্ধা তুরগুত বের ইতিহাস -

mybestanh123
0


 

#তুরগুত_আল্প

--°--

পরিচয়ঃ- নাম তুরগত বে, তুর্কি ইতিহাসের কয়েকটি বিবরণে তিনি তারগুত আল্প বা তুরগুত আল্প নামে পরিচিত। তিনি কুড়াল চালনায় সবচেয়ে পারদর্শী ছিলেন, সুঠাম দেহী, শক্তিশালী বাহু, সাহসী ও বিশ্বস্ত যুদ্ধাদের মধ্যে একজন ছিলেন। আর্তুগ্রুল গাজীর বিশ্বস্ত বন্ধু (সহোদর) হিসেবে সবসময়ই পাশে থাকতেন। এবং তার প্রতিটি কথা তিনি মেনে চলতেন। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাতে হাত রেখে তিনি আর্তুগ্রুল গাজীর সঙ্গে যুদ্ধ করতেন। তিনি আরতুগ্রুল গাজীর মৃত্যুর পরে উসমান গাজীর সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছিলেন। উসমান গাজীর মৃত্যুর পরে তার ছেলে উরহান গাজীকেও তিনি যথেষ্ট সহযোগিতা করেছিলেন। এই বীর যুদ্ধা, যিনি উসমানীয়া সাম্রাজ্যের প্রাথমিক গাজী বা যুদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 

--°--

জীবনীঃ- তুর্কি ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং খ্যাতিমান যোদ্ধা তুরগুত আল্প আর্তুগ্রুল গাজীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বিশ্বাসী, আজীবন পাশে থাকা ব্যাক্তিদের একজন, এবং সম্পর্কে তিনি আরতুগ্রুল গাজীর রক্তের ভাইয়ের মতো ছিলেন। যদিও তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব কম তথ্য জানা যায়, তবে এটি খুব সুপরিচিত যে, "তিনি কেবল একটি ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বই নন, বরং একজন কিংবদন্তী সাহসী ব্যক্তি যিনি লোক বর্ণনায় উপস্থিত হন"। এইসবের পাশাপাশি, তার যোদ্ধের উদ্যোগ এবং মহৎ কর্মকান্ড গুলো প্রথম উসমানীয় ইতিহাসে এবং কিছু বাইজেন্টাইন ইতিহাসে (সুত্রে) স্বযত্নে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রমতে, তিনি ৩৫ বছর বয়সে আর্তুগ্রুল'বে-কে মোঙ্গল বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।

--°--

জন্মঃ- তুর্কি ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং খ্যাতিমান যোদ্ধা তুরগুত আল্পের জন্ম নিয়ে ইতিহাসবিদদের ৪টি মতামত পাওয়া যায় সেগুলো হলো

☞ ১ম মতামতঃ তুরগুত আল্পের জন্ম নিয়ে ইতিহাসে তেমন কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না।

☞ ২য় মতামতঃ তুরগুত আল্প ১১৯০ বা ১১৯১ সালে মধ্যে এশিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন।

☞ ৩য় মতামতঃ তুরগুত আল্প ১১৯৫ থেকে ১২০০ সালের কোনো এক সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার জন্মস্থান অজানা।

☞ ৪র্থ মতামতঃ তুরগুত আল্প ১২০০ সালের দিকে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার জন্মস্থান অজানা।

--°--

মৃত্যুঃ- তুর্কি ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং খ্যাতিমান যোদ্ধা তুরগুত আল্পের মৃত্যু নিয়ে ইতিহাসে ৩টি বিবরণ পাওয়া যায়, সেগুলো হলো

☞ ১ম মতামতঃ তুরগুত আল্প ১৩২৫ সালে ১২৫ বছর বয়সে কুফার বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ অভিযানে শহিদ হন।

☞ ২য় মতামতঃ তুরগুত আল্প ১৩২৬ সালে বুরসা বিজয়ের পরে ১২৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরন করেন।

☞ ৩য় মতামতঃ তুরগুত আল্প ১৩৩৪ বা ১৩৩৫ সালে মৃত্যুবরন করেন।


তবে প্রসিদ্ধ এবং নির্ভরযোগ্য মতামত হলো যে তিনি ১৩২৬ সালে বুরসা বিজয়ের পরে ১২৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

--°--

তুরগুত আল্প এর বৈবাহিক জীবনঃ- তুরগুত আল্পের বৈবাহিক জীবন নিয়ে তুর্কি ইতিহাসে মতভেদ রয়েছে। গবেষক ও ইতিহাসবিদ গণের মতে তিনি দুইটি বিয়ে করেছিলেন। উস্তাদ  দেলিদেমিরের কন্যা আইকিস হাতুনকে তুরগুত আল্প প্রথমে বিয়ে করেন। মোঙ্গলদের আক্রমণের ফলে আইকিস হাতুন শহীদ হওয়ার পর তিনি আলিয়ার বের বোন আসলিহান হাতুনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এবং সেখানেই আর্তুগ্রুল গাজীর কথা রক্ষার্থে বসতি প্রধানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ইলিয়াস বে নামে তুরগুত আল্পের একটি ছেলে ছিল। পরবর্তীতে কনক মহললেসী নামক জায়গায় তুরগুত আল্পের ছেলে ইলিয়াস বের নামে একটি মসজিদের নামকরণ করা হয়। যা “ইলিয়াস বে মসজিদ" নামে পরিচিত।

--°--

উসমান গাজীর শাসনামলে তুরগুত আল্পের বীরত্বঃ-

 আর্তুগ্রুল গাজীর মৃত্যুর পর, তুরগুত আল্প প্রধান সমর্থক হয়ে উসমান গাজীর ঘনিষ্ঠ আত্মবিশ্বাসী হন, যতক্ষণ না বুরসা অবরোধের সময় উসমান গাজীর মৃত্যু হয়। মাত্র ৬৭ বছর বয়সে উসমান গাজীর মৃত্যু হয় এবং তিনি তার শাসনমালে উসমান গাজীকে যথেষ্ট সমর্থন ও সহযোগীতা করে গেছেন। উসমানীয় ইতিহাসের বিবরণ অনুসারে, ১২৯১ খ্রিষ্টাব্দে কারাজাহিসার দুর্গের দ্বিতীয় বিজয়ের সময় তুরগুত আল্প উসমান বে'র পাশে ছিলেন, এবং নাইটদের সঙ্গে যুদ্ধ করে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। এবং পরবর্তী সময় গুলোতে তিনি উসমান গাজীর সমস্ত বিজয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১২৯৯ সালে উসমান গাজী এই বীর সাহসীকে ইনেগুলের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন। কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটি উসমান গাজী তাকে দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং প্রজাদের মন জয় করেছিলেন। তিনি সেখানে ৩৬ বছর শাসন করেছেন, এবং সেই সময় মানুষ শান্তি ও সমৃদ্ধিতে বসবাস করেছে। উক্ত অঞ্চলটিকে তুরগুত-ইলি (তুরগুতের ভূমি) নাম দেওয়া হয়। বুরসা অবরোধের সময়, আব্দুল্লাহপুর মিহাইল গাজীর সাথে তুরগুত আল্প ১৩২৫ সালে আট্রানোস ক্যাসেল (ওরহানেলি) বিজয়ে অংশ নিয়েছিল যা বুরসা বিজয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

--°--

উরহান গাজীর শাসনামলে তুরগুত আল্পের বীরত্বঃ

উসমান গাজীর মৃত্যুর পর, যদিও তিনি স্বয়ং বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হয়েছিলেন, তবুও তার পুত্র দ্বিতীয় উসমানীয় সুলতান উরহান গাজীকে একইভাবে সমর্থন প্রদান অব্যাহত রেখেছিলেন, এবং প্রতিটি বিজয়ে তিনি উরহান গাজীকেও অনুসরণ করতেন। তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপদেষ্টা হিসাবেও কাজ করেছিলেন, যতক্ষণ না তিনি একটি যুদ্ধে নিহত হন বা মৃত্যুবরণ করেন।


বিঃ দ্রঃ- লেখাগুলো উইকিপিডিয়া ছাড়া অনলাইনের কয়েকটি সাইট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। কারণ অন্য কোথাও তুরগুত বের ব্যাপারে তেমন কোনো কিছু পাওয়া যায় না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)