#উসমানীয়_সাম্রাজ্য
.....
উসমানীয় সাম্রাজ্য হলো ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘস্থায়ী সাম্রাজ্য। পাশ্চাত্যের বাইরের একমাত্র সাম্রাজ্য হিসেবে উসমানীয় সাম্রাজ্য মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত টিকে থাকে এবং এ সাম্রাজ্য ইউরোপ ও বিশ্বরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সাম্রাজ্যের ইতিহাস মধ্যপ্রাচ্য, বলকান উপদ্বীপ, মধ্য ও পশ্চিম ইউরোপের জাতিগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। একটি বৃহৎ শক্তি হিসেবে উসমানীয় সাম্রাজ্য পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে খ্রিস্টান বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের স্থলাভিষিক্ত হয় এবং নিজেকে ইসলামি খিলাফতের উত্তরাধিকারী হিসেবে দাবি করে। এমন এক সময় উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটে যে সময় চেঙ্গিস খান এশিয়া ও ইউরোপ জয় করছিলেন এবং চীন থেকে পোল্যান্ড পর্যন্ত একটি বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলছিলেন। প্রায় একই সময় ইউরোপে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ শুরু করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। তখনো আজকের আমেরিকা আবিষ্কার হয়নি। তবে স্পেন ও পর্তুগাল এই নয়া পৃথিবী আবিষ্কারে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। তুরস্ক ছাড়া অন্য কোনো দেশ নিজেকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করছে না। এ দেশটি হলো দুটি মহাদেশ জুড়ে। মূল অংশ এশিয়ায় এবং সাবেক রাজধানী ইস্তাম্বুল ইউরোপে। দুটি অংশের মাঝে দার্দানেলিস ও বসফোরাস প্রণালী এবং মারমারা সাগর। এ তিনটি জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইউরোপের সাথে এশিয়ার এবং খ্রিস্টানদের সাথে মুসলমানদের শত শত বার লড়াই হয়েছে।
.....
একটি নির্দিষ্ট তারিখে উসমানীয় সাম্রাজ্য বিলুপ্ত হয়। কিন্তু কবে এ সাম্রাজ্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল তা নিয়ে অনেক মতামত রয়েছে। এরমধ্যে একটি মতামত হলো যে, ১২৯৯ সালে এ সাম্রাজ্যের সূচনা হয়েছিল। কোনো স্মরণীয় যুদ্ধ, কোনো স্বাধীনতা ঘোষণা কিংবা কোনো বিখ্যাত দুর্গের পতন ঘটা ছাড়া ইতিহাসের একটি বৃহত্তম সাম্রাজ্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বছরটি ছিল হিজরী ৬৯৯-৭০০ সাল। খ্রিস্টান ও ইসলামি বর্ষপঞ্জিতে একই সময় শতাব্দীর শুরু হয়। আর ইতিহাসের এ বিবেচনায় ১২৯৯ সালকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের শুরু হিসেবে ধরা হয়। ১৩০০ সালে উসমানীয়রা ছিলো পূর্ব বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অংশ আনাতোলিয়ায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিয়োজিত মধ্য এশিয়া থেকে বিতাড়িত অগণিত তুর্কমেন বসতির অন্যতম একটি বসতি। আনাতোলিয়া হলো কৃষ্ণসাগর, ভূমধ্যসাগর ও এজিয়ান সাগর পরিবেষ্টিত তুরস্কের বৃহত্তম ভূখণ্ড। আনাতোলিয়াকে এশিয়া মাইনরওবলা হয়। এশিয়া মাইনর মানে হলো ছোট এশিয়া।
.....
ষোড়শ শতাব্দীতে উসমানীয়দের পাশাপাশি আরো দুটি বৃহত্তম মুসলিম শক্তির উত্থান ঘটে। একটি ছিল ইরানের সাফাভি এবং আরেকটি ভারতে মোঘল। তৈমুরের উত্তরসূরি মোঘলরা ভারতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাফাভিরা ছিল সুফি। এসব সুফি আজারবাইজানের আরদাবিলে একটি মাজারের কাছে বসবাস করতো। তাদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাইফউদ্দিন। সাইফউদ্দিন নিজেকে মহানবী (সা.) এর বংশধর বলে দাবি করতেন।
.....
উসমানীয়রা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার অনেক আগে তুর্কমেনরা বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পূর্ব সীমান্তে অভিযান চালাতো। সেলজুক তুর্কিরা হলো তুর্কমেনদের মধ্যে সবচেয়ে সফল। সেলজুক তুর্কিরা যাযাবর হিসেবে মধ্য এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও আনাতোলিয়ায় অভিবাসন করে। এবং সেলজুক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। সে সময় অভ্যন্তরীণ গোলযোগে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। সেলজুক সাম্রাজ্য বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের মুখোমুখি হয় এবং ১০৭১ সালে আনাতোলিয়ার উত্তরে সুলতান আল্প আরসালানের নেতৃত্বে মালাজগির্ট এর যুদ্ধে সুলতান আল্প আরসালান বাইজান্টাইন বাহিনীকে পরাজিত করে। এ বিজয় তুর্কমেনদের জন্য পশ্চিমে অভিবাসনের দরজা খুলে দেয়। ৮ শো বছরের দিগ্বিজয়ে মুসলমানরা স্পেন এবং ভূমধ্যসাগরের কয়েকটি দ্বীপ ছাড়া আর কোনো ভূখণ্ড হারায়নি। মরক্কো থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত ভূখণ্ডে একটির পর একটি মুসলিম রাষ্ট্র। এখানে কোনো অমুসলিম রাষ্ট্র নেই। যেন মুসলিম রাষ্ট্রগুলো একে অন্যের পিঠে হেলান দিয়ে প্রাচীরের মতো দাঁড়ানো। সামরিক দিক থেকে কেউ উসমানীয় সাম্রাজ্যের সমকক্ষ ছিল না। ষোড়শ শতাব্দীর শেষদিকে উসমানীয়দের অগ্রযাত্রা মন্থর হয়ে যায়। কেননা সংখ্যায় উসমানীয়রা ছিল তাদের খ্রিস্টান প্রতিপক্ষদের তুলনায় স্বল্প।
.....
এমন এক সময় ছিল যখন চীন সীমান্ত থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূল পর্যন্ত মুসলমান ছাড়া অন্য কোনো জাতির নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এশিয়ার দক্ষিণ ভাগে ছিল মোঘল সাম্রাজ্য, তার লাগোয়া ছিল পারস্যের সাফাভি সাম্রাজ্য, মধ্যভাগে সেলজুক সাম্রাজ্য ও মামলুক সালতানাত এবং পশ্চিমে শেষ মাথায় উসমানীয় সাম্রাজ্য। সেলজুক সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটে। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, উসমানীয় সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে। সুলতান দ্বিতীয় বায়েজীদ স্পেনের মুসলমানদের রক্ষায় সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি শুধু মুসলমান নন, ইহুদিদেরও রক্ষা করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি এডমিরাল কামাল রেইসকে স্পেনে পাঠান। তবে তিনি পূর্বাঞ্চলে মামলুক হুমকিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সুলতান সোলেমানের আমলে সুদূর ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় পর্তুগীজদের বিরুদ্ধে কুরতোগলু খিজির রইসের নেতৃত্বে উসমানীয়রা অভিযান চালিয়েছিলো।
.....
ভারত মহাসাগরে প্রথম অভিযান চালিয়েছিলেন সোলায়মান পাশা। সোলায়মান পাশার পর অভিযান চালান যথাক্রমে পিরি রেইস, মুরাদ রেইস ও সৈয়দ আলী রেইস। কাপুরুষের মতো পালিয়ে আসায় পিরি রেইসকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় (এই ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে)। প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে নৌবহর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলে সৈয়দ আলী রেইস দিল্লিতে মোঘল সম্রাট হুমায়ুনের দরবারে আশ্রয় নেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর সামর্থ্য উসমানীয়দের ছিলো। কিন্তু তাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল পশ্চিম ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর। এ অঞ্চলে উসমানীয়রা আজকের শক্তিশালী ইউরোপীয় জাতিগুলোকে কোণঠাসা করে রেখেছিল।
.....
১৬৮৩ সালের পর উসমানীয়রা আর কখনো ইউরোপের প্রতি হুমকি হয়ে উঠতে পারেনি। তারা দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে ২ শো বছরের বেশি নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে এবং আধুনিক বুলগেরিয়া, সার্বিয়া, গ্রীস, রুমানিয়া, হাঙ্গেরী ও অন্য দেশগুলোতে প্রাধান্য বিস্তার করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত আধুনিক তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, ইরাক, ফিলিস্তিন, জর্দান ও সৌদি আরবের অধিকাংশ ছিল এ সাম্রাজ্যের অংশ। ১৯২২ সালে বিলুপ্তির কয়েক দশক আগে উসমানীয় সাম্রাজ্যের কোনো ইউরোপীয় প্রদেশ ছিল না। ১৮৭৮ সালে বার্লিন চুক্তির আগে উসমানীয় সাম্রাজ্যকে একটি ইউরোপীয় শক্তি হিসেবে গণ্য করা হতো। শেষ দিনগুলোতে তাকে একটি এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি বলে মনে হতো।
.....
দুটি ভিন্ন রুটে ইউরোপে ইসলাম প্রবেশ করে। একটি রুট ছিল জাবাল-আত-তারিক এবং আরেকটি বসফরাস প্রণালী। উসমানীয়রা দ্বিতীয় রুটে ইসলামকে ইউরোপীয় ভূখণ্ডে নিয়ে যায়। ১৩৫৪ সালে উসমানীয়রা ইউরোপে প্রবেশ করে এবং বলকান অঞ্চল বিজয়ের মধ্য দিয়ে উসমানীয় বেইলিক একটি আন্তঃমহাদেশীয় সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত হয়। ১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মোহাম্মদ (ফাতিহ সুলতান মেহমেদ খান দ্বিতীয়) কন্সটান্টিনোপল বিজয় সম্পন্ন করলে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে মহান সুলতান সোলেমানের রাজত্বকালে শক্তির চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছার সময় উসমানীয় সাম্রাজ্য ছিল বহুজাতিক ও বহুভাষী। ইস্তাম্বুল (কন্সটান্টিনোপল) রাজধানী হওয়ায় এবং ভূমধ্যসাগরের আশপাশের ভূখণ্ডগুলো নিয়ন্ত্রণ করায় উসমানীয় সাম্রাজ্য ৬ শত বছর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
.....
তিনটি মহাদেশ জুড়ে উসমানীয় সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করেছিলো। প্রাথমিকভাবে বাইজান্টাইন ভূখণ্ডে অটোমান সাম্রাজ্যের বীজ উপ্ত হয়েছিল। পরে মধ্য এশিয়া ও ইউরোপে এ সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণ ঘটে। একসময়ের অখ্যাত উসমান গাজীর বংশধররা পরবর্তী ২ শত বছরের মধ্যে আড্রিয়াটিক উপকূলের দুরাজ্জো থেকে পূর্ব আনাতোলিয়ার ইরজুরুম পর্যন্ত ভূখণ্ডের ওপর প্রভুত্ব কায়েম করে। ইউরোপের সাথে নিরন্তর লড়াই করে তাকে অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়েছে। ভৌগোলিক সম্প্রসারণ ছিল উসমানীয় সাম্রাজ্যের অন্যতম নীতি। অধীনস্ত ভূখণ্ডের কোটি কোটি মানুষের ভরণ- পোষণ এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ লাভে এ নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রথমে উসমানীয় সুলতানদের শাসন ছিল অনিরাপদ। সাম্রাজ্যকে সংহত করতে উসমানীয় সুলতানরা ক্রীতদাস ও ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান জানবাজ যোদ্ধাদের নিয়ে গঠন করেন ক্র্যাক পদাতিক জেনিসারি। উসমানীয়রা অবনতিশীল বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যকে উপর্যুপরি যুদ্ধে পরাজিত করে দ্রুত পশ্চিমে তাদের সাম্রাজ্যকে সম্প্রসারিত করে। এ সাম্রাজ্য একটি শক্তিশালী নৌশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং ভূমধ্যসাগরের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অর্জন করে।
.....
এক সময় উসমানীয় সাম্রাজ্য ইউরোপীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়। এ সাম্রাজ্যের সাফল্য ও সামরিক ক্ষমতা ছিল রোমান বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সমান। ইতালীয় পণ্ডিত ফ্রান্সিসকো সানসোভিনো ও ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ বোদিন উসমানীয় সাম্রাজ্যের ভক্ত ছিলেন।
.....
প্রজাদের নিঃশর্ত আনুগত্য ছিল উসমানীয় সাম্রাজ্যের স্থায়িত্বের অন্যতম উপাদান। প্রজারা উসমানীয় রাজবংশের শাসনের অধিকারকে কখনো চ্যালেঞ্জ করেনি। তারা উসমানীয় রাজবংশের এক সুলতানের স্থলে আরেক সুলতানের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনবা পরিবর্তনে দ্বিধা করেনি। তবে এ রদজবংশের বাইরের কারো প্রতি তাদের আনুগত্য প্রদর্শনের কোনো উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায় না। মোটামুটি সবাই একমত ছিল যে, সার্বভৌমত্ব হচ্ছে আল্লাহর হাতে। উসমান গাজীর হাতে স্বপ্নযোগে আল্লাহ এ সার্বভৌমত্ব অর্পণ করেন এবং তার পরবর্তী ৩৬ জন পুরুষ সার্বভৌমত্বের অধিকারী ছিলেন। দেশের পর দেশ জয় করলেও উসমানীয়রা কোথাও নিজ হাতে শাসনভার গ্রহণ করেনি। জয় করার পর তারা প্রশাসন তুলে দিতো স্থানীয় লোকদের হাতে। কখনো কখনো উপযুক্ত লোক পাওয়া না গেলে উসমানীয়রা মাসের পর মাস অপেক্ষা করতো। ১৫২৬ সালে হাঙ্গেরীর মোহ্যাকচ যুদ্ধে এরকম একটি দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায়। উসমানীয়রা হাঙ্গেরীর রাজধানী বুদা এবং স্মার্ণা বিজয় করে। কিন্তু ক্ষমতা বুঝে নেয়ার জন্য স্থানীয় কোনো নেতা এগিয়ে আসেননি। দেশটিতে বছরের শেষ তিন মাস ক্ষমতার শূন্যতা বিরাজ করে। রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ভেঙ্গে পড়ে। বিজয়ী উসমানীয়রা দেশটিতে তাদের শাসন চাপিয়ে দেয়নি।
.....
উসমানীয়রা তাদের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব সংহত এবং প্রতিবেশিদের সাথে মিত্রতা স্থাপনে বিয়েকে একটি কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করে। এরকম কয়েকটি রাজনৈতিক বিবাহের নজির পাওয়া যায় উসমানীয় সাম্রাজ্যে। দ্বিতীয় উসমানীয় সুলতান ওরহান গাজী প্রতিদ্বন্দ্বী বাইজান্টাইন সম্রাট ষষ্ঠ জন কান্টাকুজেনির কন্যা থিওডোরা কান্টাকুজেনিকে বিয়ে করেন এবং কৌশলগত উপায়ে গ্যালিপলি উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ লাভ করেন। পরবর্তী উসমানীয় সুলতান প্রথম মুরাদ ১৩৭৮ সালে বুলগেরিয়ার রাজা আইভান আলেক্সান্ডারের কন্যা মারাকে বিয়ে করেন। একইভাবে তার উত্তরাধিকারী সুলতান প্রথম বায়েজিদ ইয়িলদিরিম জার্মিয়ান আমির সুলাইমান শাহের কন্যা সুলতানা হাতুন এবং জুলকাদিরের আমির সাবান সুলি বের কন্যা এমিনি হাতুনকে বিয়ে করেন৷ এবং সুলতান ২য় মুরাদ সার্বিয়ার রাজা লাজারের কনিষ্ঠ কন্যা মারাকে বিয়ে করেন।

